খুলনা অফিস
গৃহপরিচারিকার ওপর নির্যাতনে অভিযুক্ত খুলনার পুলিশ দম্পতিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় কর্মরত এএসআই পপি মিত্র ও এএসআই সঞ্জয় মিত্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তার মা মিনতি রানী দাস বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই আগে থেকে হেফাজতে থাকা একই থানায় কর্মরত পুলিশ দম্পতি এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সাইফুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ দম্পতি আসামি এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আদালতের অনুমতিক্রমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে, পপি মিত্র অসুস্থতাবোধ করায় তাকে প্রিজনসেলে রাখা হয়েছে। কী ধরনের অসুস্থতা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার ডান হাতে সমস্যা হয়েছে, যা ডাক্তার ভালো বলতে পারবে।’
এর আগে বুধবার দুপুুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করেন সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাকা দেন তিনি।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন চন্দ্র দাস। গত ৫ বছর ধরে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন।
গত বুধবার নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে গৃহকর্মী মিলনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারা সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় যান এবং ভিকটিমের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার বিকেলে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকের সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের একটি ভবনের ভেতরে এক ব্যক্তিকে নির্যাতিত হতে দেখে দূর থেকে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, রান্না করার সময় সবজি পুড়ে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী এএসআই পপি মিত্র গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মী মিলনের শরীরে ছ্যাঁকা দেন। এতে ভুক্তভোগী দগ্ধ হন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দু'জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।
খুলনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজন্তা দাস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আসামিরা দুজনেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। কোনো অবস্থাতেই তাদের দ্বারা এমন অগ্রহণযোগ্য অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।