ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
পুকুরের মাছ লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার ভাইকে কুপিয়ে জখম ও দুইপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছে।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন গ্রুপের মধ্য এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, রাকিবুল ইসলাম ওরফে ছটো (৪৭), ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
আহতদের হরিণাকুন্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বোয়ালিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. বজলু ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজালের দুটি সামাজিক গ্রুপ রয়েছে। অ্যাড. বজলুর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের বোয়ালিয়া বিলের মাঠে একটি বড় পুকুর রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সেই পুকুরে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বড় বড় মাছ ভেসে উঠলে তাইজাল হোসেনের গ্রুপের লোকজন সেই মাছ লুট করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেন রাকিবুল ইসলাম।
শুক্রবার সকালে পুকুর দেখতে গেলে প্রতিপক্ষরা রাকিবুলকে কুপিয়ে জখম করে। এই ঘটনার জেরে শনিবার অ্যাড. বজলুর গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেনের মোবাইল একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা রিপন দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অ্যাড. বজলুর রহমান বলেন, আমার ভাইয়ের পুকুরের মাছ লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন রাকিবুলকে কুপিয়ে জখম করেছে। এই ঘটনায় শনিবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, “সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে দু’পক্ষের দু’দফা হামলা-পাল্টা হামলায় ১৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”