যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরে এমএসটিপি স্কুল-কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ১০:০১ পিএম
যশোরে এমএসটিপি স্কুল-কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মধুসূদন-তারপ্রসন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দফতরে এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসএম সাইফুল আলম বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিমাসে কয়েকশ’ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব বা তহবিলে জমার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত ২০ নম্বরের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি’ আদায় করা হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব কিংবা শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয় না।

বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক না দিয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়, যার ফলে পাঠদানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে পাঠদান করবেন তা এককভাবে অধ্যক্ষ নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে আপত্তি তুললে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে, যা অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালনা কমিটির যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন নির্মাণকাজে স্বচ্ছ টেন্ডারপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ওই গাইড ক্রয়ে উৎসাহিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আলোচনা থাকলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

টিফিনের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাবার বিক্রি, বিভিন্ন শ্রেণিতে পার্টির আয়োজন এবং সে সময় বহিরাগত ফটোগ্রাফারদের প্রবেশের অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাদের মতে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এসব অভিযোগের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দেন কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করে দেখুক।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)