মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজন হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রাজন গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুন কাজীপুর মুন্সিপাড়া জামে মসজিদে পাকিস্তানের ৪ জন নাগরিক তাবলিগ জামাতের দ্বীনি প্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন। ওই দিন বিকেলে তাবলীগে আসা বিদেশি মেহমানরা গ্রামের বাসিন্দা ও লালন ভক্ত রাজনকে মাগরিবের নামাজের দাওয়াত দেন। এ সময় দাওয়াত নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনের সাথে পাকিস্তানিদের দোভাষী সঙ্গী বাংলাদেশি আশিকের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
আশপাশের লোকজন এই ঘটনা দেখে উত্তেজিত হয়ে রাজনকে প্রতিহত করতে গেলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। পরে রাজন নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পরপর ৪টি ককটেল রাস্তায় নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটান। শুধু ককটেল বিস্ফোরণই নয়, এরপর তিনি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্র মহড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে রাজনের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজন ও তার পিতা আব্দুর রশীদের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় রাজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি রাজনের পিতা রশীদ বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।