যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নড়াইলে মৎস্য অফিসে অপ্রীতিকর ঘটনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন,২০২৬, ১০:৩৩ এ এম
আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন,২০২৬, ০২:৫১ পিএম
নড়াইলে মৎস্য অফিসে অপ্রীতিকর ঘটনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের (৩৫) অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাতে নড়াইল সদর থানায় মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন মৎস্য কর্মকর্তা।

অভিযুক্ত জিসানুর রহমান সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে জিসানুর নামের ওই যুবক মাঝে মাঝেই অফিসের গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য দাবি করতেন। তার চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে ৪-৫ জনকে সাথে নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত জিসানুর।

এ সময় তারা নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনীর তালিকা দাবি করেন। এর আগেও এই তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে, মৎস্য কর্মকর্তা এ কথা বলা মাত্রই জিসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর করেন এবং সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভেঙে ফেলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) মো. আবু রায়হান বলেন, ‘জিসানুর বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে ঝামেলা করছেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেছিলেন। কিন্তু যেকোনো বরাদ্দ একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়; এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি অহেতুক ঝামেলা করতেন। সর্বশেষ তিনি আমার অফিসে এসে ভাঙচুর ও মারধর করেছেন। বাধ্য হয়ে আমি থানায় মামলা করেছি।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জিসানুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠা-বসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজের জন্য যেতে হয়। মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে কোনো তথ্যের জন্য গেলে তা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। উল্টো তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। তার অফিসের কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘রোববার বিকেলে কিছু তথ্যের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে মৎস্য কর্মকর্তা রায়হান সাহেব অকারণে গালিগালাজ ও অশালীন আচরণ করেন। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব দেখান। তার এই অপেশাদার আচরণ ও গালিগালাজ আমি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করছিলাম। এ সময় তিনি চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং আমাকে মারধর করেন। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নিজের হাতের ধাক্কায় কম্পিউটারটি নিচে পড়ে ভেঙে যায়। পরে অফিসের কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। এখন শুনলাম উল্টো আমার নামেই মামলা করা হয়েছে।’

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)