স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের আদালতের বারান্দায় মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে টানাটানির ঘটনায় আটক মো. রাজু নামে এক যুবককে ৫ ঘণ্টা হাজতবাসের পর মুক্তি দিয়েছেন বিচারক। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পালের বক্তব্য শুনে তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন কোর্ট পরিদর্শক।
রাজু যশোর শহরের আশ্রম রোড এলাকার ইমান আলীর ছেলে।
এর আগে দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান তাকে পুলিশ দিয়ে আটক করে হাজতে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী বেনাপোল পোর্ট থানার গয়ড়া গ্রামের সবুর আলীর মেয়ে শরিফা বেগম জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মার্চ মাসে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদরের তৈলঘিরা এলাকার সিদ্দিক আলীর ছেলে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী নাসিরকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এক মাস আগে মায়ের মৃত্যু হওয়ায় বাবার বাড়ি আসার পর নাসির তাকে আর নেবেন না বলে জানিয়ে দেন। ফলে, গত ৯ জুন শরিফা বেগম তার স্বামী নাসিরের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন।
নাসির মামলার বিষয়টি জানতে পেরে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিলে শরিফা বেগম রাজি হন। তারা দুইজন সোমবার আদালতে যান। নাসির আদালতে তার স্ত্রীকে মামলা প্রত্যাহার ও তালাক দেওয়ার শর্তে নগদ দুই লাখ টাকা ও তিন লাখ টাকার একটি চেক বুঝিয়ে দেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষ হলে শরিফা বেগম ও তার মেয়ে জামাই আরিফুল সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। তখন তাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় রাজুসহ তিন সহযোগী শরিফা বেগম ও তার মেয়ে জামাইয়ের গতিরোধ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ডিবি অফিসে ফোন করেন। এর মধ্যে রাজু ও তার সহযোগীরা তার মোবাইলফোন কেড়ে নেয়।
তাৎক্ষণিক আরিফুল ইসলাম দৌড়ে এজলাসে গিয়ে ঘটনাটি বিচারককে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ রাজুকে আটক করতে সক্ষম হলেও পালিয়ে যায় তার সহযোগীরা।
বিকেলে শরিফা বেগম, তার মেয়ে জামাই আরিফুল ও আটক রাজুকে বিচারকের কাছে হাজির করেন কোর্ট পরিদর্শক। বিচারক উভয়ের বক্তব্য শুনে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।