খুলনা অফিস
খুলনায় মো. মারুফ নামে এক চালককে ফাঁদে ফেলে হত্যা ও তার ইজিবাইক ছিনতাইয়ের লোমহর্ষক ঘটনা উন্মোচন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ বাড়ির উঠানে পুঁতে গুম করা হলেও ঘাতক স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর হরিণটানা থানার রেলসেতু-সংলগ্ন ব্লুওয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির উঠান থেকে মাটি খুঁড়ে নিহত চালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনি খাতুন নামে এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে (পবিত্র রমজান মাসে) পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ইজিবাইক চালক মারুফকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশটি মুরাদ মোল্লার বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয় এবং ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনি খাতুন দম্পতির মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে তারা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতেন, যার ফলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়। সোমবার সকালে মুরাদ তার স্ত্রী ফাল্গুনিকে ব্যাপকভাবে মারধর করলে ফাল্গুনি থানায় এসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং মারুফ হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা পুলিশকে জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করে এবং তাদের দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করে।
হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইজিবাইকটির চেসিস ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে নিহত চালক মারুফের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স অফিসার (যানবাহন) শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি নগরীর মুজগুন্নি এলাকার মোল্লা মো. মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল। তবে পুলিশ জানায়, তিনি ইজিবাইকটি আগেই খালিশপুরের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এখন আগের মালিকের সহায়তায় পুলিশ নতুন ক্রেতা এবং নিহত চালকের পরিবারের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে।