যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সেঁজুতি ফের শ্যোন অ্যারেস্ট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সেঁজুতি ফের শ্যোন অ্যারেস্ট

একটি হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য ও  জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত দু'দফা শুনানির পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোর ক্ষণিকা পিকনিক স্পটের সামনে সংঘটিত ঘটনায় ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা আদালতে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ ধারায় সাতক্ষীরা সদর থানায় ১৪ নম্বর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। যার জিআর নম্বর ৪০৩/২৪। এই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ২৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পরে ১ জুন ২০২৫ তারিখ আবার তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ৪৪, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ জিআর ৯৬/২৫ ধারা- ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/৩৮০/৫০৬ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১১ জুন ২০২৫ তারিখে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নম্বর ২০, জিআর ২৭৮/২৫ ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলা দায়ের করা হয় এবং ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য আল মাহামুদ পলাশ জানান, ৩ জুন ২০২৬ হাইকোর্ট তাদের আসামিকে সর্বশেষ মামলায় জামিন দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোটের আ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদন জানালে ‘নো-অর্ডার’ হয়। গত ১০ জুন ওই মামলায় জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন তাকে আবার জিআর ৩৯৯/২৪ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অ্যাডভোকেট পলাশ আরো জানান, ২৫ জুন ২০২৬ সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৩৯৯/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে আবার জিআর ৪০২/২৪ ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬, সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৪০২/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। 

আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নম্বর ৪০৩/২৪ ধারা- দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে ইমদাদুল হক। সাতক্ষীরার তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা এক নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন। আদালতের আদেশে পরে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত হয়।

মামলায় বাদী জানান, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। অপরদিকে এক থেকে ছয় নম্বর আসামি পুলিশে কর্মরত এবং অন্যান্য আসামিরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এজাহারভুক্ত ৩২ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন তিনটি কালো মাইক্রোবাসযোগে বাদীর ভাই শহিদুল ইসলাম এর বাড়িতে আসেন এবং তাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে মাইক্রোতে তুলে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যান। পরে গভীর রাতে থানা থেকে যশোরের ক্ষণিকা পিকনিক স্পটের সামনে নিয়ে যান। সেখানে এক ও দুই নম্বর আসামির নির্দেশে তিন, চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর আসামি ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে গুলি করেন। হত্যার পর লাশ পিকনিক স্পটের সামনে ফাঁকা জায়গায় রেখে চলে যান তারা।

মামলায় বাদী আরো জানান, বিষয়টি তখন থানায় ইউডি মামলা রুজু করে ধামাচাপা দেওয়া হয়। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। ভিকটিম শহিদুল ইসলামের পরিবারপক্ষ তখন হত্যা মামলা করার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে এবং বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)