বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর-এনায়েতপুর সড়কটি চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আব্দুলপুর, পোলতাডাঙ্গা, সাজিয়ালি, শাহবাজপুর, এনায়েতপুর এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি বারীনগর বাজারে নিয়ে যায়। শাহবাজপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হাইস্কুল এবং একটি মাদরাসার কয়েকশ’ শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক কিমি এই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে জমে থাকে বৃষ্টির পানি। ফলে কাদা-পানিতে সয়লাব রাস্তাটি ভ্যান, সাইকেল বা অন্য যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সড়কের কালভার্ট প্রান্তে। সেখানে রাস্তার মাটি ধসে প্রায় ৫-৬ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলগামী শিশু এবং কৃষকরা অন্যের জমির ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জায়গাটি পার হয়ে থাকেন।
বর্ষার সময় এই জায়গাটি পার হওয়ার সময় কয়েকদফা স্কুলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ গর্তে পড়ে আহত হয়েছে বলে জানান গ্রামবাসী ও স্কুলের শিক্ষকরা।
শাহবাজপুর স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার খাদিজা জানায়, আমরা সাইকেল নিয়ে স্কুলে যেতে পারি না। এই জায়গা পার হওয়ার সময় অনেক ভয় করে। আমাদের স্কুলের দুইজন এই গর্তে পড়ে আহতও হয়েছে।
আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক বিপুল মল্লিক বলেন, বারীনগর হাটে আমাদের সবজি নিয়ে যেতে হয়। মাঠে ট্রাক্টর নিয়ে যাওয়া যায় না। রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ।
শাহবাজপুর হাইস্কুলের শিক্ষক আশিস কামাল ছনেট বলেন, আমাদের প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী এছাড়া প্রাইমারি স্কুলেও প্রায় দুইশ’ শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত এই গর্ত এড়িয়ে রাস্তা পার হয়। শিক্ষকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারে না। আমরা একটা স্থায়ী সমাধান চাই, রাস্তা যেনো পাকা করা হয়- সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
হামিউস সুন্নাহ মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মিরাজ বলেন, ওই পাশের গ্রাম থেকে কয়েকজন অভিভাবক মাদরাসায় তাদের বাচ্চাদের দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে শেষপর্যন্ত বাচ্চাদের আর ভর্তি করাননি।
পাশাপাশি কয়েক গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র এই পথটি আশু সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন আব্দুলপুর গ্রামের বিশিষ্ট কৃষক, সবজির চারা উৎপাদনকারী আমিনউদ্দিন। তিনি বলেন, মৌসুমে আমরা ১০-১২ কোটি টাকার চারা বিকিকিনিসহ সবজি উৎপাদন করি। বারীনগর হাটে আমাদের এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের সবজি সরবরাহ করে। অথচ, এমন একটি ব্যস্ততম রাস্তার এই নাজুক হাল।
তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাউদ দফাদার বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। আপনি যেহেতু বলছেন, সেকারণে আগামী শনিবার সরেজমিন সেখানে যাবো। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে দেখি, কী করা যায়।’