স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
অভাব-অনটন, দাম্পত্য কলহ আর পারিবারিক অশান্তিতে ভেঙে পড়েছিল যশোরের শার্শার চটকাপোতা গ্রামের কামাল হোসেনের সংসার। স্ত্রী এক সপ্তাহ আগে দুই শিশুসন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর পাঁচ বছরের সাবির ও আড়াই বছরের জাবিরকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন ভ্যানচালক কামাল।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়। কিছুক্ষণ পর বাড়ির পাশের পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় কামালের মরদেহ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই সন্তানকে হত্যার পর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
তবে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
যশোরের শার্শা উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত নেদন আলীর ছেলে কামাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো সাবির হোসেন ও জাবির হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, কামাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তার একাধিক স্ত্রী ছিলেন এবং কয়েকজন সন্তান রয়েছে। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। সর্বশেষ স্ত্রী রাবেয়া খাতুনও পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ আগে দুই শিশুকে রেখে নড়াইলে বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর দুই শিশুর দেখভাল ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে কামাল চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। অভাব-অনটনের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারামারি হতো। স্ত্রী এর আগেও সন্তানদের রেখে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে কামালের বাড়ির দোচালা টিনের ঘর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করা অবস্থায় কামালকে পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আম্বিয়া খাতুন জানান, আগের ঘরের বড় ছেলেকে বাড়ির বাইরে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি ঘরের দিকে ছুটে যান। সেখানে কামালকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ছেলেটি বাবার গলার দড়ি কাটার চেষ্টা করছিল। পরে বটি দিয়ে দড়ি কেটে কামালকে নামানো হয়। এরপর ঘরের ভেতর ছোট শিশু জাবিরকে খাটে এবং আরেক শিশুকে জানালার পাশে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় বলে ওই স্বজন জানান।
স্থানীয়দের কেউ কেউ কামালের মানসিক সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তিনি মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়তেন।
খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি শিশু দুটির মৃত্যু এবং কামাল হোসেনের আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বলেন, কামাল হোসেন আত্মহত্যা করেছেন। একই ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। শিশু দুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। তদন্তের পরই দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কামাল হোসেনের আত্মহত্যার পেছনের কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।