স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের চৌগাছা উপজেলার কাঁদবিলা গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনু মিয়া (৫৪) জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যশোর জেনারেল হাসপাতাল মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এ ঘটনায় মনিরুলের ছোট মেয়ে সুমাইয়া ইসলাম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ৩৫৪, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। পাশাপাশি তিনি হেপাটাইটিস বি-তেও ভুগছেন। শুক্রবার চিকিৎসার জন্য ছোট মেয়ে সুমাইয়া ইসলাম ও বোনই মো. হাশেম আলীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর শহরের অসীম ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে আসেন। সেখানে ডা. মো. আহসানুল হক সোহেল তাকে চিকিৎসাপত্র লিখে দেন। পরে জুমার নামাজ পড়তে মনিরুল ও তার বোনই হাশেম আলী জেনারেল হাসপাতাল মসজিদে যান। নামাজ শেষে হাশেম আলী ফিরে এলেও মনিরুল ফেরেননি। এরপর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার।
নিখোঁজ মনিরুলের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঁদবিলা গ্রামে। পরিবারের দাবি, তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় পথ ভুলে অন্য কোথাও চলে যেতে পারেন।
এদিকে পরিবারের কাছে আসা তথ্যে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গড়াই পরিবহনের একটি বাসে ঝিনাইদহ বাসটার্মিনালে মনিরুলকে দেখেছেন। তাদের ধারণা, নির্ধারিত বাসে না উঠে অসুস্থ ওই ব্যক্তি ভিন্ন রুটের বাসে চেপে অন্য কোথাও চলে গেছেন।
মনিরুলের ছোট মেয়ে সুমাইয়া জানান, তারা তিন ভাইবোন। বড় ভাই আব্দুর রহমান প্রায় এক বছর ধরে সৌদি আরবে রয়েছেন। বড় বোন রাজিয়া খাতুনের বিয়ে হয়েছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামে। বাড়িতে তার বা মনিরুল ইসলাম মনু মিয়া ও মা ফাতেমা বেগম বসবাস করতেন। বর্তমানে তার মা একা দিনযাপন করছেন।
মনিরুলের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কেউ তার সন্ধান পেলে পরিবার, তদন্ত কর্মকর্তা বা সুবর্ণভূমির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।