স্টাফ রিপোর্টার
যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিচ্ছেন চৌগাছা পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আতিকুর রহমান লেন্টু।
ছবি:
জমি দখল, পারিবারিক সম্পত্তি আত্মসাৎ, সার ব্যবসায় অনিয়ম, মিথ্যা মামলা এবং মডেল মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোরের চৌগাছা পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও বিভিন্ন হাটের ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান লেন্টু। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেন্টু তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ও প্রচারিত অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাবার কোনো জমি তিনি ভোগদখল করেননি। বরং বাবার পাঁচ শতাংশ জমির ওপর থাকা দুইতলা বাড়িটি তার চাচাতো ভাই মো. তরিকুল ইসলাম ও জহরুল ইসলামের ইন্ধনে তাকে ও দুই বোনকে বঞ্চিত করে ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলামের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে।
বাবা, চাচা, ভাই, বোন ও চাচাতো ভাইদের ব্যবসায়িক অর্থ ও সম্পদ অবৈধভাবে ভোগদখলের অভিযোগও অস্বীকার করেন লেন্টু। তিনি এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি জহরুল ইসলামের ইন্ধনে তরিকুল ইসলাম, জহরুল ইসলাম, মাজিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও ইছহাক আলী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন। এ ঘটনায় করা মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের পাওনা অর্থ ও সম্পদ ফেরত চাওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করার অভিযোগও অস্বীকার করেন লেন্টু। তার দাবি, এ-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে চলমান। তার বাবা যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অর্থ ও সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবিতে আবেদন করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি সম্পদ ফেরত দিতে প্রস্তুত বলেও জানান লেন্টু।
সার আটকের বিষয়ে লেন্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে তিন দফায় সার আটকের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আটক সার খাইরুল ইসলামের এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে আটক হওয়া কোনো সারই তার নয় বলেও দাবি করেন লেন্টু।
মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারায় অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটসহ চৌগাছার বিভিন্ন হাট এবং মহেশপুর ও কালীগঞ্জের মোট দশটি হাট ইজারা নিয়েছেন তিনি।
চৌগাছা উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণে বাধা দিতে হাইকোর্টে রিট করার অভিযোগও অস্বীকার করেন লেন্টু। তার দাবি, মসজিদ নির্মাণ বন্ধের জন্য তিনি রিট করেননি। ৬৮১ নম্বর দাগের পরিবর্তে একই মালিকানাধীন ৬৫৩ নম্বর দাগে নির্মাণের বিষয়ে রিট করা হয়েছে। এ মামলায় তিন মাসের স্ট্যাটাসকো জারি হয়েছিল বলেও জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকজন দোকানদার এ বিষয়ে রিট মামলা করেছেন বলেও দাবি করেন লেন্টু।
সংবাদ সম্মেলনে লেন্টু দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য মিথ্যা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।