স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সুবর্ণভূমি-
ছবি:
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্রয় করা জমি দখল, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন যশোরের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সদর উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল কালাম আজাদ।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, চাকরিজীবনের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে গত ৮ জানুয়ারি চাঁদপাড়া মৌজার ৭০১ ও ৭০২ নম্বর দাগে ৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি স্থানীয় সুজনের কাছ থেকে বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে কেনেন তিনি। পরে জমিটি তার নামে নামজারি খতিয়ানও (নম্বর ২০২৬-১০০০২৮) অনুমোদিত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জমি কেনার পর থেকেই ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বিএম এলোম হোসেন রানা, স্থানীয় মিলন ও তার স্ত্রী বিভিন্নভাবে তাকে বাধা দিয়ে আসছিলেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন। তবে বিএনপি নেতা রানা জমির বিক্রেতার মৃত চাচার স্ত্রী হনুফা বেগমকে উসকানি দিয়ে ওই জমির অংশীদার দাবি করান এবং আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা (নম্বর ৪৫৯/২৬) করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত শেষে জমিটি তার দখলে রয়েছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট বিএম এলোম হোসেন রানার ইন্ধনে হনুফা খাতুন, তার ছেলে রায়হান ওরফে রকি, রিফাত, গোলাম নবী, আসাদুল্লাহ, রফিকুল ও বিপুলসহ কয়েকজন বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করেন। তারা শ্রমিকদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএম এলোম হোসেন রানা সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অবৈধ ক্রেতা’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আবুল কালাম আজাদ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত; হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিতে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি; রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে বৈধ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমি দখলের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিএম এলোম হোসেন রানা ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, নার্গিস বেগম, মোহাম্মদ তুহিন হোসেন ও মো. বেল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএম এলোম হোসেন রানা বলেন, হনুফা বেগম ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের ডাকে তিনি দুই-তিনবার সেখানে গিয়েছেন।
তবে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কখনো কোনো কথা বলেননি। এমনকি অভিযোগকারীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে তার কোনো কথা হয়নি। তিনি বলেন, ‘একদল স্বার্থান্বেষী লোক আমার নাম সামনে এনে আমাকে হয়রানি করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’