যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পঙ্গু হয়ে ফিরলেন কালীগঞ্জের রাজন

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পঙ্গু হয়ে ফিরলেন কালীগঞ্জের রাজন

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে জমি বিক্রি ও ঋণ করে দশ লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় গিয়ে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের তরুণ রাজন হোসেন (২২)। মাসে ৭৫ হাজার রুবল বেতনে চাকরির কথা বলে রাজনকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে, এক রুশ নারী চিকিৎসকের মানবিক সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট ক্র্যাচে ভর দিয়ে দেশে ফিরেছেন এই অভাগা তরুণ।

এদিকে রাজনের বাবার দায়ের করা মানবপাচার মামলার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ঢাকা ও ফরিদপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে 'জাবালে নূর' রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মিজানুর রহমান এবং স্থানীয় দালাল আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তদন্তে জানা গেছে, এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রটি প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে রাশিয়া নিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য করে, যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ জন নিহত হয়েছেন।

রাজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের কালুর ছেলে।

গত ৮ মে ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে রাশিয়া যাওয়ার পর স্পষ্ট হয় যে, চাকরির বদলে রাশিয়ার ওরেনবুর্গে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রাজনসহ অন্যরা রাশিয়ার এজেন্ট জুলিয়ার পা ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আকুতি জানালেও লাভ হয়নি। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।

গত ১৪ জুন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং ডান পা কার্যক্ষমতা হারায়। একই হামলায় ওই দলের মেহেদী, মিন্টু, রিপন ও মামুনসহ ১৭ জন সহযোদ্ধা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আহত অবস্থায় চার দিন বুকে ভর দিয়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রুশ শিবিরে পৌঁছান রাজন। পরে রাশিয়ার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একজন রুশ নারী চিকিৎসকের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে ফেরা সম্ভব হয়।

ঋণের বোঝা আর পঙ্গুত্ব নিয়ে ফেরা রাজন ও পরিবার এখন এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)