স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য জমানো দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি সোনার গহনা নিয়ে স্ত্রী কুলসুম আক্তার তিশা (২৩) উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ তার স্বামীর।
ঘটনাটি যশোর শহরতলীর রামনগর কাজীপুর এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় কুলসুম আক্তার তিশা ও তার বোন কবিতার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন (৩২)।
সোহাগ হোসেনের দাবি, তাদের ছেলে রোহান হাসান কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছে। আগামী ৩ বা ৪ নভেম্বর ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার কথা। এ জন্য জমানো টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে স্ত্রী চলে যাওয়ায় তিনি চরম সংকটে পড়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় আট বছর আগে যশোরের মুন্সিপাড়া এলাকার সোহাগ হোসেনের সঙ্গে কুলসুম আক্তার তিশার বিয়ে হয়।
সোহাগের অভিযোগ, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। গত ১৮ অক্টোবর তিশার বোন কবিতা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ২০ অক্টোবর বিকেলে বোনকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বের হন তিশা।
এ সময় ঘরে থাকা অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য জমানো নগদ দেড় লাখ টাকা ও কয়েক লাখ টাকা মূল্যের সোনার গহনা নিয়ে যান বলে অভিযোগ।
পরদিন ২১ অক্টোবর সকালে যশোর বাসটার্মিনাল এলাকায় তিশা তার এক আত্মীয়ের কাছে যান। সেখানে ছেলেকে তার কাছে রেখে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ফিরে না আসায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে শিশুটিকে তার বাবা সোহাগ হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোহাগ জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য অনেক কষ্টে টাকা জমিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা ও গহনা না পেলে সন্তানের চিকিৎসা কীভাবে করাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তবে, এ বিষয়ে তিশার মা আমেনা বেগম জানান, তার মেয়ে কোনো নগদ টাকা নিয়ে যায়নি; তার কাছে ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র থাকতে পারে। এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে তিশা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার দাবি।
এদিকে, অতীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। পরে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিশা আবার সংসারে ফিরে যান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কবির হোসেন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।