চৌগাছা +যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের ঐতিহ্য খেজুরের রস সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
এ বছর ‘যশোরের যশ-খেজুরের রস’ ও এর থেকে উৎপাদিত গুড়ের মাধ্যমে প্রায় একশ’ কোটি টাকা উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জিআই স্বীকৃত খেজুর গুড় উৎপাদন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সোমবার (২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ মৌসুমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
এ উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের মাঠে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন, গাছি সমাবেশ এবং খেজুরগাছের চারা ও রস সংগ্রহের উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, চৌগাছায় প্রায় দুই লাখ খেজুরগাছ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা সম্ভব।
একটি গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে গড়ে ৮০ লিটার রস পাওয়া যায়, যা থেকে প্রায় ১০ কেজি গুড় উৎপাদন করা যায়।
এ হিসাবে উপজেলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৯ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদিত হয়।
চলতি মৌসুমে গোটা যশোর জেলায় অন্তত ১০০ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, চৌগাছার খেজুর গুড় উৎপাদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন।
কৃষিমন্ত্রী চৌগাছাকে বিশেষ কৃষি অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
চলতি মৌসুম থেকে খেজুর গুড় বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেবে।
তিনি আরও জানান, একজন উদ্যোক্তা খেজুরের রস থেকে সিরাপ তৈরি করে চলতি মৌসুমেই বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন।
এতে খেজুরের রস ও গুড়ের বাজার সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে গাছিদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে খেজুরগাছের চারা, গাছ কাটার দা ও রস সংগ্রহের পাত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেসবাউর রহমান, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল উপস্থিত ছিলেন।