মেহেরপুর প্রতিনিধি
সুবর্ণভূমি—
ছবি:
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন ছিল পারিবারিক যোগাযোগ। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে প্রায় ৪৫ বছর পর তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশে বসবাসরত বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগরে স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় বেলতলায় বাবাকে শেষবারের মতো দেখেন তিনি।
মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোনরুদ্দিনের বয়স হয়েছিল ১০০ বছরের বেশি। তার ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।
প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরাফিলের সঙ্গে বিয়ের পর বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন ফিরদৌসী খাতুন। পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হলে বাবার বাড়ির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা বা যোগাযোগের সুযোগ হয়নি তার।
বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শেষবারের মতো তাকে দেখার সুযোগ করে দিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্যোগে এ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই সুনীল কুমার।