মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আটকে পড়ার ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে মুজিবনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সামসুজ্জোহাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটির পর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ওয়াশরুমে আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় সে ভেতরে আটকে থেকে চিৎকার ও কান্নাকাটি করলেও কেউ শুনতে পায়নি। এদিকে শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা মনিরুল ইসলাম উদ্বিগ্ন হয়ে স্কুলে খোঁজ নিতে আসেন। একপর্যায়ে পথচারী ও স্থানীয়রা স্কুলভবনের ভেতর থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান।
পরে স্থানীয়রা এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন এবং প্রায় এক ঘণ্টার উৎকণ্ঠা শেষে ওয়াশরুমের তালা খুলে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে বিদ্যালয়ের কোলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র বলেন, ‘ছুটির সময় সব চেক করার পর ছাত্রীটি ভবনটির দ্বিতীয় তলায় উঠে যায়, যা শিক্ষকরা খেয়াল করেননি। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এসব বিষয়ে শিক্ষকদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, শিশুটি দীর্ঘ সময় ভেতরে আটকা ছিল এবং এ নিয়ে শহরজুড়ে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন।
তবে সেই সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে কল দিলেও তা কেটে দেওয়া হয়, যা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সদর ইউএনও খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।