মাগুরা প্রতিনিধি
‘কোম্পানির চাকরি করি। গাড়িতে তেল নেই। গতকাল দশ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। আজ (বৃস্পতিবার ১৬ এপ্রিল) ভোর ৪টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখনো পর্যন্ত তেল পাইনি। জ্বালানি তেল না হলে মার্কেটে যেতে পারবো না। মার্কেটে না যেতে পারলে চাকরি থাকবে না। তাই আজ বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসেছি। যে করেই হোক আজ তেল নিতেই হবে।’
কথাগুলো বলছিলেন পাম্পে তেল নিতে আসা তোহিদুর রহমান। মাগুরা শহরে অবস্থিত ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা এই ব্যক্তি এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
তোহিদুর রহমানের মতো অসংখ্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পাম্প মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। সে কারণে পাম্প খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এরই মাঝে প্রাইভেট কার, সরকারি জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোতে তেল নিতে দেখা যায়।
মাগুরা শহরের পাম্পগুলোতে প্রতিদিনই জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের কথা শোনাচ্ছেন গ্রাহকেরা। সকলেরই এক কথা, কেউ তেল পাচ্ছেন, আবার অনেকেই লাইনের মাঝ পথে থেকেই সংবাদ পাচ্ছেন তেল নেই।
এভাবে প্রায় দেড় মাস ধরে ভোগান্তি মাথায় নিয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছেন যানবাহন চালক, কৃষকরা।
ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের লাইন দীর্ঘ। অনেক সময় তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন কেউ কেউ।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেরুন্নছা দাবি করেন, জেলার প্রতিটা পাম্পে জ্বালানি তেল রয়েছে এবং তা সুষ্ঠুভাবে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের জন্য প্রতিটা পাম্পে পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ভোগান্তি লাঘবে প্রতিটা পাম্পে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তেল পাম্পগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পারিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অনিময় পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।