স্টাফ রিপোটার
, যশোর
বৃষ্টিশেষে চড়ুই
ছবি: কৌশিক তাহসান
তীব্র গরমে পুড়তে থাকা যশোরে অবশেষে মিলেছে স্বস্তির বৃষ্টি। গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরম আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ঝমঝমিয়ে শুরু হয় বৃষ্টি।
স্বস্তির পাশাপাশি এতে করে শহরের কয়েকটি এলাকায় সড়কে পানি জমে মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়।
বেশ কিছুদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় তাপমাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। প্রখর রোদ আর গরম হাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকুলেও নাভিশ্বাস ওঠে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের এই বৃষ্টি তপ্ত ধরিত্রীর বুকে আশীর্বাদ হয়ে আসে। বৃষ্টির পর গুমোটভাব কেটে শীতল পরিবশে ফিরে আসে।
তবে, বৃষ্টির পানিতে উপশহর ক্লাব মোড়, শহরের আরবপুর মোড়, শংকরপুর মুরগি খামার এলাকা, মুড়লির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে লোক ও গাড়ি চলাচলের সমস্যা হয়েছে।
শহরের আরবপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হাসান রকি জানান, বৃষ্টির ফলে জনজীবনে প্রশান্তি নেমে এলেও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়কে পানি জমে চলা ফেরায় সমস্য হচ্ছে। পৌরসভা থেকে নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার না করার কারণে এই সমস্যার দেখা দিয়েছে।
পথচারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন শহরে ১১টা বাজার পর গরমের কারণে কাজ করা যেত না। তিনটার পরে কাজ করতে হতো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে একটু স্বস্তি মিলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী ও নাসির উদ্দিন জানান, এই বৃষ্টি যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বৃষ্টির ফলে ধুলোবালি কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে দীর্ঘক্ষণ পর প্রশান্তি নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। দুপুরের এই বৃষ্টিতে মুহূর্তেই গুমোট গরম কেটে প্রকৃতিতে শীতল আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
যশোর বিমান বাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটিস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। পৌনে ৩টা পর্যন্ত ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাবে যা আগামী কয়েকদিন জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।