কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়ে নিহত বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও কোহিনূর বেগমের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরেছে।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টায় নজরুল ইসলামের মরদেহ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছায়। একই সময় কোহিনূর বেগমের মরদেহ দেশে আসে। প্রবাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর তাদের লাশ দেশে আনা হলো। এরপর সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে নজরুলকে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ পৌঁছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ ভোর ৪টার দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় লাশ দাফনের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
গেল মাসের ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে তারা নিহত হন। নিহত নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর কোহিনুর বেগম নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার সেনপাড়ার আব্দুল করিমের মেয়ে। নজরুলের পরিবার বলছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে তাদের হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ২০১৮ সালে পারিবারিক সচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়া যান। এরপর নজরুল ইসলামের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কোহিনুর বেগম মালয়েশিয়া যান। দেড় মাস আগে তারা বিয়ে করেন। এরপর থেকে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন।
নিহত দুইজনের স্বজনরা জানান, মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষাণ্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন নজরুল ইসলাম ও কোহিনূরকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় তারা।
নিহত নজরুল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।
নিহতের ভাই জহির রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আজ তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।’
তবে কোহিনুর বেগম সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘মৃত্যুর পর আমরা জানছি যে, তারা বিয়ে করেছিল এবং একসঙ্গে বসবাস করতো।’