যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শিক্ষিকার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে,২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে,২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
যশোরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শিক্ষিকার অভিযোগ

স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক দাবিতে অত্যাচার, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ও খিলগাঁও ইন্টারন্যাশনাল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক নার্গিস আক্তার খালেদা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এসময় তার ছেলে খালেদ রহমান আলিফ ও কন্যা রুবাইয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নার্গিস আক্তার বলেন, ২০০৭ সালে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের মানিক গাজীর ছেলে বদিয়ার রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

তার অভিযোগ, স্বামী বিভিন্ন সময় তার অজান্তে ব্যাংক হিসাব থেকে স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া ঢাকায় জমি বিক্রির অর্থ, সোনার গহনাসহ প্রায় ৯০ লাখ টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করেন।

তিনি আরও জানান, ২০১২ সালের ২৫ মার্চ তার ছেলে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তিনি বাসায় না থাকার সুযোগে শাশুড়ি সুফিয়া বেগম ও ভাসুর মশিয়ার গাজী ঢাকার বাসার আলমারি ভেঙে প্রায় ১০ ভরি সোনার অলংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান।

একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ করেন। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নার্গিস আক্তার বলেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে তিনি তার স্বামীকে আরেকটি সুযোগ দেন। কিন্তু ২০২১ সালে বদিয়ার রহমান পুনরায় ভুয়া পরিচয় ও খালি চেক ব্যবহার করে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। সেই সময় আরও তিন ভরি সোনার অলংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ২১ মার্চ শ্বশুরবাড়িতে গেলে স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

তিনি দাবি করেন, তার শ্বশুর মানিক গাজী, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ইসহাক ও তার স্ত্রী রুমি আক্তার পাপিয়া, চাচাতো ভাসুর মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম, ননদ সালমা বেগম এবং সালমার স্বামী মোস্তফা তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন।

এমনকি তার সন্তানদেরও মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং সন্তানদের ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নার্গিস আক্তার বলেন, পারিবারিক চাপ ও ভয়ভীতির কারণে বাবার জমি বিক্রির প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি শ্বশুরের জমির ওপর একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন।

এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান। তবে মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় তাকে ও তার সন্তানদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি তার ও তার সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা অর্থ ও সম্পত্তির সুষ্ঠু বিচার এবং নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে রুবাইয়া রহমান ও ছেলে খালেদ রহমান আলিফ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)