স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণাকারী চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রেসক্লাব যশোরসহ সংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। রোববার (১৭ মে) সকালে ওই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে সংবাদিক নেতারা উল্লেখ করেছেন, অর্ধশতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব যশোর এই জেলার সাংবাদিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জেলার পেশাজীবী সকল সাংবাদিক এই ক্লাবের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ।
যশোরের উন্নয়ন, সম্ভাবনা নিয়ে এই জেলার সাংবাদিকরা যেমন তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করেন; তেমনি সমস্যা, সঙ্কট, জনদুর্ভোগ, জনআকাঙ্ক্ষা নিয়েও প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশে থাকেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত চক্র যশোরের পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্র হনন ও ঐক্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যশোরের পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যসম্বলিত কুরুচিপূর্ণ ভিডিও ছড়িয়ে সম্মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।
ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচারে নামা দুর্বৃত্ত চক্রটি যশোরের মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব প্রতিমন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করেও মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছে। দুর্বৃত্ত চক্রের এমন তৎপরতা কেবল পেশাদার সাংবাদিকদের বিব্রত ও তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, জনমনে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করছে। দুর্বৃত্ত চক্রের এমন তৎপরতায় যশোরের সব পর্যায়ের পেশাদার সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ।
গত ১১ মে (সোমবার) প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যশোরের সাংবাদিক সংগঠনসমূহের যৌথ সভায় এ ব্যাপারে উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়, সম্প্রতি ‘যশোরের মিডিয়া কোরাপশন’ নামে ফেসবুকে একটি ভুয়া পেজ খুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে দুর্বৃত্ত চক্র। চক্রটি যশোরে সংবাদকর্মীদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে কয়েকটি ভিডিও তৈরি করে। কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো ওই পেজে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন নামে আরও কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়।
সাংবাদিকনেতারা মনে করেন, চিহ্নিত ‘ব্ল্যাকমেইলার চক্র’ সাংবাদিদের চরিত্র হনন করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই ভিডিও তৈরি ও অপপ্রচারে নেমেছে। সাংবাদিকতার নামে অবাধে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে জিম্মি করে অসাধু উপায়ে অর্থ আদায়সহ নানা অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দুর্বৃত্ত চক্র এহেন অপকর্ম করছে। এসব চক্রের সাথে সাংবাদিক নামধারী টাউট-চাঁদাবাজ এমনকি পুলিশের কতিপয় সদস্যও জড়িত রয়েছেন বলে নানাভাবে শোনা যাচ্ছে।
সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন ও পেশাদার সাংবাদিকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সাংবাদিকতার নামে এমন অনৈতিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্ত চক্রকে শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সাংবাদিক নেতারা দাবি করেন, ফেক আইডি খুলে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার চালানো দুর্বৃত্তচক্রের সঙ্গে যে বা যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং এই বিষয়ে সম্ভাব্য সব কিছু করবেন বলে সাংবাদিক নেতাদের আশ্বস্ত করেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, যশোর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোপীনাথ দাস এবং সাধারণ সম্পাদক এমআর খান মিলন।