যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গণমুখী করতে নেওয়া উদ্যোগ সফল হোক

প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গণমুখী করতে নেওয়া উদ্যোগ সফল হোক

যশোর জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি দীর্ঘ শীতনিন্দ্রায় ছিল। আলোচ্য সময়ে এই কমিটির কোনো সভাই বসেনি। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি যখন শীতনিদ্রায় যায় তখন অবধারিতভাবে নানা ধরনের সংকট, অপতৎপরতা, দুর্নীতি প্রভৃতি জেঁকে বসে। আর বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ, যাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

দীর্ঘদিনের ছেদ কাটিয়ে অবশেষে গত ১৬ মে কমিটি যে সভা করতে পেরেছে, এতে সাধারণ রোগীদের খানিকটা আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য। তিনি সভায় সভাপতিত্ব করাকালে কমিটির সদস্যরা সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তারা তুলে ধরেন, জেনারেল হাসপাতালে বেসরকারি ক্লিনিকের দালালদের অবাধ বিচরণ, গ্রামের গরিব ও অসহায় রোগীদের প্রতারণার ফাঁদ; জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোর নোংরা পরিবেশ, যেখানে রোগী সেবার চেয়ে অবহেলা পাওয়াটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের কর্মক্ষেত্রে চরম অবহেলা, জুনিয়র ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ, এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসরঞ্জামের অভাবে রোগীদের ভোগান্তি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) বেহাল দশা এবং দীর্ঘদিনেও আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সেবা চালু করতে ব্যর্থতা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে কমিটির সদস্যদের।

আর কমিটির প্রধান হিসেবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যা বললেন, তা যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে যশোরের স্বাস্থ্যসেবার চেহারাই বদলে যাবে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাসপাতালে কোনো দালাল ঢুকতে পারবে না। এর জন্য হাসপাতাল প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে জেনারেটর সংকট, ইভিনিং ও নাইট শিফটে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরণ, সরকারি দায়িত্বকালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিইউ ও আইসিইউ চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা কি বাস্তবে রূপ নেবে? তিন বছর ধরে যে কমিটি বসেনি, সেই কমিটি কীভাবে এতো এতো সমস্যার সমাধান করবে? এসব সমস্যা সমাধানে তাদের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা কি আছে? দালালরা কি সত্যিই হাসপাতাল থেকে বিতাড়িত হবে? দালালদের নিয়ন্ত্রণ করে যেসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেগুলোর অধিকাংশই তো বেনামে সরকারি চিকিৎসকদের মালিকানাধীন। শর্ষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভূত কীভাবে সরানো সম্ভব? সিনিয়র চিকিৎসকদের শৃঙ্খলায় আনা কি এতো সহজ? তাদের অনেক ক্ষমতা ও দাপট।

এরপরও আমরা মনে করি প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান সরকারি হাসপাতালকে অনেকটাই বদলে দিতে পারে। অপকর্মের সাথে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিবেশ বদলাতে বাধ্য।

মনে রাখা দরকার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হওয়াটা শেষ কথা নয়, বরং সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই প্রকৃত কথা। তিন বছরের অব্যবস্থাপনা আমরা ভুলে যেতে চাই। এখন নির্বাচিত সরকারের আমলে আমরা সরকারি হাসপাতালের টিপটপ পরিবেশ ও সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আগ্রহীদের সামনের কাতারে দেখতে চাই।

আশা রাখি, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে। আমরা অপেক্ষা রইলাম।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)