ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মেডিকেল কলেজ স্থাপনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরে একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘জেলার উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবো। তবে, মেডিকেল কলেজ নয়।’
তার এই বক্তব্যের পর জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে তিনি নিজ উপজেলা শৈলকুপায় যান। এরপর থেকেই মেডিকেল কলেজের স্থান নির্বাচন নিয়ে জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঝিনাইদহ সদর জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, জেলার একপ্রান্তে অবস্থিত শৈলকুপায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে অধিকাংশ মানুষ ভৌগলিকভাবে বঞ্চিত হবে।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’ ব্যানারে শহরের পায়রা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন হয়েছে। এতে সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলিম, সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, ডা. কামাল হোসেন, ডা. মনিরুল ইসলাম, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এমএ কবিরসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এদিকে, একই সময় হরিনাকুন্ডু উপজেলাতেও একই দাবিতে সেখানকার মানুষ মানববন্ধন করেছে।
সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ‘ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সদর হাসপাতালের জায়গাতেই করা সম্ভব। এছাড়া আরও উপযুক্ত স্থান রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, ঝিনাইদহের মন্ত্রী গোপালগঞ্জের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছেন। সরকারদলীয় এমপি হিসেবে আপনারাই তো বলেন 'সবার আগে বাংলাদেশ'। তাহলে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেওয়ার আগে শৈলকুপাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কেন?’
তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহের গৌরব, দেশেরও গৌরব। কিন্তু মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে তিনি ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অন্যথায় ঝিনাইদহবাসী মেডিকেল কলেজ শহরে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।