সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় যুব, নারী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘জেলা পর্যায়ে যুব, নারী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল জোরদারকরণ: সমন্বিত পরিকল্পনা, বহুপাক্ষীয় অংশীদারিত্ব ও নীতিগত মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পানসি কনফারেন্স হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 'সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন'-এর সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'হেড' -এর আয়োজন করে।
বৈঠকের বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও জলাশয়ে উদ্বেগজনক হারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবন, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। এই অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে এবং ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণসহ স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই অভিযোজন প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।
হেড নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সুশীলনের উপ-পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম, সনাক্তের সভাপতি ও সাবেক ফেফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত এবং জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন। গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন ক্রিসেন্টের পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, এমএসএফ-এর অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর –এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, হেড নির্বাহী কমিটির সদস্য রেহেনা পারভীন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার, হোসেন আলী, ইব্রাহিম খলিল, সংস্থার প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম অন্তর এবং পৌরসভার ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য অলিভিয়া লাউরা।
বৈঠকে বক্তারা উপকূলের সমসাময়িক জলবায়ু সংকট তুলে ধরে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক কাঠামোর পাশাপাশি আমাদেরও স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার নদ-নদীতে লবণাক্ততা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সুপেয় পানির সংকটসহ দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসছে। উন্নত বিশ্ব ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে গড়িমসি করলেও আমাদের চুপ করে থাকলে চলবে না; আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের অধিকারের কথা প্রতিনিয়ত বলে যেতে হবে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক সুরক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা জেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং যুব নেটওয়ার্কের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।