মাগুরা প্রতিনিধি
টানা অতি বৃষ্টিতে মাগুরা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, বসতবাড়ি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বলতার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাগুরা পৌরসভার সাত ও নয় নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরাও ফসলের ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এক দিনের টানা বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়।
অনেক এলাকায় বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। পানির নিচে সড়কের গর্ত ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিহা জানায়, বুধবার থেকে তাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে যানবাহন না পেয়ে অনেকটা পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়েছে।
নিজনান্দুয়ালীর বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন বলেন, বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় পানি জমে যায়। বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে রাস্তায় চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই জলাবদ্ধতার সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই এলাকার গৃহিণী রোমেসা খাতুন বলেন, রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরের ভেতরে রান্না করতে হচ্ছে। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. তাসুকুজ্জামান বলেন, ভোর থেকে টানা বর্ষণে পুকুর, ডোবা ও ড্রেন উপচে রাস্তায় পানি জমে গেছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যমান ড্রেন দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সড়কে পানি জমে পথচারী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাগুরা শহরের বিশেষ করে সাত ও নয় নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্বাসনে উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।