যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অন্ধ ঘোড়া দেখভাল করা কলেজছাত্র সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুলাই,২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
অন্ধ ঘোড়া দেখভাল করা কলেজছাত্র সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহানের অনন্য মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান, দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পথ থেকে একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়াকে উদ্ধার করে আশ্রয় ও লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া ওই শিক্ষার্থীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সোহানের বাড়িতে গিয়ে এই আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় সার্বিক বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। অনেকেই সেটি দেখে ভিডিও ধারণ করলেও অবলা প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে যাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চান্দুড়িয়া গ্রামের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সোহান। তিনি ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয় পশুচিকিৎসককে ডেকে ঘোড়াটি পরীক্ষা করে তিনি জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং চিকিৎসার মাধ্যমেও এর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

চিকিৎসকের এমন মন্তব্যের পরও দমে যাননি সোহান। তিনি ঘোড়াটিকে তাড়িয়ে না দিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে এর নিয়মিত পরিচর্যা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন।

এ বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কলেজছাত্র সোহান বলেন, দুটি চোখ অন্ধ হলেও এটি তো একটি জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটা প্রাণীকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারি না। বিবেকবোধ থেকেই ওকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। যত দিন বেঁচে থাকবে, সাধ্যমতো ওর যত্ন নেবো।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এই উদ্যোগের খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন- এটি অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণার।

সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, ছেলের প্রবল আগ্রহের কারণে ঘোড়াটিকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। সাধ্যমতো এর দেখাশোনা করছি। মানুষ হিসেবে অসহায় ও অবলা প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো সবারই দায়িত্ব।

ব্যতিক্রমী ও মানবিক এই উদ্যোগের জন্য সোহান এখন স্থানীয় মানুষের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন।

প্রতিবেশীদের মতে, বর্তমান স্বার্থকেন্দ্রিক সমাজে একটি অসহায় ও অন্ধ প্রাণীর প্রতি সোহানের এমন মমত্ববোধ ও মানবিকতা সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)