স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিয়ের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর যখন কোলজুড়ে এসেছিল একমাত্র সন্তান আনাস, তখন আনন্দের সীমা ছিল না লেদমিস্ত্রি বাবা ইব্রাহিম হোসেন আর মা ইয়াসমিনের। কিন্তু সেই আনন্দের দিন ফুরিয়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।
ব্রেইন ও ফুসফুসের মারাত্মক ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে নয় মাসের ফুটফুটে আনাস।
যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার ইব্রাহিম হোসেনের শিশুসন্তান আনাস। ইব্রাহিম একজন লেদ কারখানার শ্রমিক ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছে শিশুটি। বর্তমানে অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শুধু সিট ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রয়োজন হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। দীর্ঘ তিন মাসের এই চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই এই দরিদ্র পরিবারের ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিজের সঞ্চয় তো শেষ, উপরন্তু আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
১৪ জুলাই চিকিৎসকরা আনাসের জন্য একটি জরুরি ইনজেকশন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
হতদরিদ্র ইব্রাহিম হোসেনের দাবি, চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- এই দামি ইনজেকশনটি দিতে না পারলে হয়তো আর বাঁচানোই যাবে না নিষ্পাপ আনাসকে। কিন্তু পকেটে একটা টাকাও না থাকা এই লেদমিস্ত্রি বাবার পক্ষে এখন এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অসহায় মা ইয়াসমিন ও বাবা ইব্রাহিম হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিয়ের পাঁচ বছর পর এই একটাই সন্তান। ওরে ছাড়া আমাদের ঘর অন্ধকার। ডাক্তার ৩০ হাজার টাকার একটা ইনজেকশন দিতে বলছে। ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে এই ইনজেকশন না দিতে পারলে আমার বাজানরে আর বাঁচানো যাবে না। আপনারা আমাদের একটু দয়া করেন।’
নিষ্পাপ শিশুকে তার দরিদ্র মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক মানুষদের প্রতি দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।