যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যুবদল নেতার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ১০:০৬ পিএম
যুবদল নেতার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

যশোরের বাঘারপাড়ায় যুবদল নেতা রুবেল হোসেনকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্পে এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে নিহত রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তেলীধান্যপুড়ার বাসিন্দা রাব্বির বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সাথে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। কাভার্ডভ্যানটি যশোর–মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছান। এ সময় রুবেলের পথরোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২২) তিন–চারজন। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যান রাব্বি।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনর্চাজ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগে রুবেলের মৃত্যু হয়। তার বুকে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে।

বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম বলেন, স্থানীয় কয়েকজন বখাটে নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদরাসা মাঠে আড্ডা দিতো। একদিন মাদ্রাসার হুজুর রাব্বিকে সেখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করেন। নিষেধ না শুনে রাব্বি উল্টো হুজুরকে আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে রুবেল তাকে চড় মারে। সেই থেকে রাব্বির ক্ষোভ, সে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিতো। সেই প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন বলেন, রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরোও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসেছিলো। তারা বয়সসে তরুণ।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে, সন্ধ্যায় খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)