যবিপ্রবি প্রতিনিধি
উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব আলোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. শাহ এমরান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সকল বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৫ম তলার সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন: নলেজ শেয়ারিং অ্যান্ড প্যানেল ডিসকাশন’ শীর্ষক আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. শাহ এমরান বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাজ ও ভূমিকা উপস্থাপন করে বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল হলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যয়নকারী একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা। কাউন্সিলের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব সমূহ হলো, সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মান যাচাইয়ের জন্য পৃথক ডিসিপ্লিনভিত্তিক এ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করা ও বাংলাদেশের সাথে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং তাদের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম বা পাঠ্যক্রমের মান যাচাই করে অ্যাক্রেডিটেশন বা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা।
সর্বোপরি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নতকরণে অ্যাক্রেডিটেশনের কোন বিকল্প নাই। অ্যাক্রেডিটেশন থাকলে দেশের শিক্ষার্থীরা যেমন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য গমণে যথাযথ মূল্যায়ন পাবে, ঠিক তেমনি অ্যাক্রেডিটেশন থাকা বিভাগগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এটি যেমন একটি দেশের শিক্ষা পদ্ধতির জন্য কল্যাণময় তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতকরণে ও র্যাঙ্কিং অর্জনের জন্য আবশ্যক। তিনি এই বিষয়ে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। তিনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলকে আহবান জানান এবং শিক্ষা ও গবেষণা এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে যে মানদন্ড আছে সে বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আলোচনা করেন। প্যানেল আলোচনা পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ স্ব-স্ব বিভাগের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে বিশ্বমানে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আইকিউএসির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইকিউএসি অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. কে. এম. আনিস-উল-হক সহ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্য অতিথিরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক (ইটিএল) ড. ফারহানা ইয়াসমিন।