ইবি প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিলে ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
মিছিলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এখনো ২৫১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারের উদ্বেগ ও অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। তারা জীবিত না থাকলে অন্তত তাদের কবরের সন্ধান পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের দীর্ঘদিনেও সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির অগ্রগতি ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।
অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসন অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।