লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মফিজার মোল্যা নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার বেয়াই মশিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ধৃত ফাতেমা বেগম উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভাটগাতী গ্রামের নিহত মফিজার মোল্যার স্ত্রী। অপর আসামি মশিয়ার রহমান একই ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের শওকত রহমানের ছেলে এবং নিহতের বেয়াই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাতে মফিজার মোল্যাকে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফাতেমা ও মশিয়ারের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। ঘটনার কয়েক দিন পর তারা দুজন বিয়ে করে সংসার শুরু করেন বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
শনিবার রাতে নিহত মফিজার মোল্যার মেয়ে মনিকা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তার মা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান মফিজার মোল্যাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা মফিজারকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণ জানতে চাইলে ফাতেমা বলেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাননি। এ কারণে মশিয়ার রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে হত্যা করেন।
তবে পরে তারা মফিজারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করেন এবং পরদিন সকালে তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানান।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।