স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের ঝিকরগাছায় ১৭ কোটি টাকার কথিত প্লাটিনাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুই আসামিকে আটক করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক সরদার এবং একই উপজেলার সাতবসু গ্রামের মৃত কাসেম কারিকরের ছেলে শাহাজান আলী কারিকর।
এসআই দেব্রবত ঘোষের নেতৃত্বে সাইবার ক্রাইম টিম অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করে।
এর আগে এ মামলার আরেক আসামি শরিফুল ইসলামকে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে আটক করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম।
আটক শরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
এ ঘটনায় রোববার রাতে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের সিটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট সোহরাব হোসেন পিন্টু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের মধ্যে মামুন নামে এক কর্মচারী প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে কর্মরত। গত ৭ আগস্ট মামুন তার পূর্বপরিচিত শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে জানতে পারেন, শরিফুলসহ আরও কয়েকজন একটি মূল্যবান ধাতব পদার্থ পেয়েছেন। তারা দাবি করেন, সেটি প্লাটিনাম এবং বাংলাদেশি বাজারে এর আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি টাকা।
এ সময় শরিফুল মামুনকে জানান, কথিত ওই ধাতব পদার্থ বিক্রির জন্য তারা একজন বিশ্বস্ত ক্রেতা খুঁজছেন। বিষয়টি মামুন তার কর্মস্থলের মালিক সোহরাব হোসেন পিন্টুকে জানান। পরে গত ১০ আগস্ট শরিফুলসহ কয়েকজন সোহরাব হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে একটি নম্বরে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ওই ব্যক্তি কথিত ধাতব পদার্থটি কিনবেন এবং নগদ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকেই নিয়ে যাবেন। এসময় জানানো হয়, ধাতব পদার্থটি সংগ্রহ করতে ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজন। ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করে লাভের টাকা ভাগ করে নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। প্রলোভনে পড়ে বাদী ও মামুন বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে আসামিদের ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। পরে গত ১৯ আগস্ট কথিত ধাতব পদার্থ আনতে বাদী সাতক্ষীরায় গেলে শরিফুল তাকে একটি প্লাস্টিকের বক্স দিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে বক্সটি খুলতে। পরে বাড়িতে এসে বক্স খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একটি ইটের টুকরা রয়েছে। এরপর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে প্রথমে শরিফুলকে আটক করে। তার কাছ থেকে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামিকে আটক করে শনিবার (২৯ আগস্ট) আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দী গ্রহণ শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।