স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বাঘারপাড়ার চণ্ডিপুর গ্রামের সাজেদুল ইসলাম রাকিবকে লিবিয়ায় পাচারের মামলায় আটক ইতালি প্রবাসী আলমগীর হোসেনসহ দশজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় মারুফ হোসেন নামে একজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো, বাঘারপাড়ার চণ্ডিপুর গ্রামের ইটালি প্রবাসী আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী পারুল খাতুন, মোছাহাক বিশ্বাসের ছেলে লিটন হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার মান্দারপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান ওরফে সেলিম প্রকাশ ওরফে ইংলিশ সেলিম, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার নাজিরহাট পৌরসভার পশ্চিম সুয়াবিল এলাকার আলমের ছেলে আজিজ উদ্দিন, কুমিল্লা লামাই থানার কেদারদুয়ার গ্রামের হাজী ছায়েদুর রহমানের ছেলে মনির আহম্মেদ, নাঙ্গলকোট থানার যুগিপুকুরিয়া গ্রামের কামালের ছেলে ওমর ফারুক, ধানোড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল ওরফে ভাগ্নে সোহেল ও একই গ্রামের সোহেল রানা ওরফে মফিয়া সোহেল।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ইটালি প্রবাসী আসামি আলমগীর হোসেন দূরসম্পর্কের আত্মীয় রাকিবদের। রাকিবকে বৈধ ভিসায় ইতালি পাঠিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর ও তার সহযোগীরা ২০ লাখ টাকা নেয়। পরে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি আসামিরা রাকিবকে বাড়ি থেকে নিয়ে ইতালি না পাঠিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে একটি চক্রের কাছে আটক রাখে। লিবিয়ায় আটক অবস্থায় রাকিবকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে টাকা না দিলে হত্যা করা হবে বলেও তারা জানায়।
রাকিবকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ২০২৪ সালের ৪ জুন রাকিবের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে ইতালি প্রবাসী আলমগীর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে যশোর মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের আদেশে ১০ জুন অভিযোগটি বাঘারপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পায়।
এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই দশজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন, পারুল, সেলিমুজ্জামান, ওমর ফারুক ও ভাগ্নে হোসেলকে পলাতক দেখানো হয়েছে।