লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে শোকজ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজের জবাব যথাযথ না হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগ, গত ৬ এপ্রিল স্কুল চলাকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে সহকারী শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের একাধিক স্থানে জখমের চিহ্ন ফুটে ওঠে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে ১ এপ্রিল একই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপক কুমার দাস মারধর করেন।
শেষ ঘটনার পরের দিন ৭ এপ্রিল শিক্ষার্থী নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনিমেষ কুমারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে ৮ এপ্রিল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান লোহাগড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী এবং অন্য দুজন সদস্য হলেন এটিও দিবাকর কুমার নাগ ও দেবাশীষ সিংহ।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ বলেন, 'তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে বদলি বা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।'