সুবর্ণভূমি ডেস্ক
এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি করবে স্থানীয় প্রশাসন উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রোববার রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার একটি নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করেছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বসে বদলির আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি উপজেলা পর্যায়ের আবেদন যাচাই-বাছাই করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদলির আদেশ জারি করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একইভাবে জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি থাকবে। যারা সংশ্লিষ্ট বদলি আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি আদেশ জারি করবে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণবিষয়ক কমিটিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক সভাপতি থাকবেন।
একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকারের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে আমাদের ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার ফল এখনও সন্তোষজনক নয়। আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে । এছাড়া প্রাথমিকের সকল শিক্ষার্থীদের শীঘ্রই ‘মিড-ডে মিল’ প্রদান করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীরা মূল্যবোধ নিয়ে নিয়ে গড়ে উঠুক। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট' এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে শিক্ষাখাতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ইউনিসেফ, বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাই কমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, ইউনিসেফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।