ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের পক্ষে ঝিনাইদহ শহরে কয়েক দিন ধরে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে বিশ্বকাপের আমেজ।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠীর আয়োজনে হলুদ সবুজ জার্সি ও ব্রাজিলের পতাকা হাতে বর্ণিল শোভাযাত্রা ও র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তবে, র্যালি শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় চিরচেনা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খুনসুটি ও শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে ঝিনাইদহে ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উৎসব।
র্যালিতে অংশ নেওয়া ব্রাজিল ভক্তরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর থাকলেও সুযোগ হাতছাড়া করেনি আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। তাদের দাবি, কয়েকদিন ধরে শহরজুড়ে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা আর নানা আয়োজনের ঘোষণা শুনে তারা ভেবেছিল জনসমুদ্রে পরিণত হবে শহর। কিন্তু র্যালির চিত্র দেখে অনেকেই মজা করে বলছে, মাইকিংয়ের শব্দ ছিল হাজার মানুষের, কিন্তু র্যালিতে মানুষ ছিল গুণে গুণে কয়েকজন। মাইকিংয়ের জোয়ার, র্যালিতে ভাটা দেখেছি।
আর্জেন্টিনার সমর্থক মাহাবুব বলেন, মাইকিং যতো বেশি, সমর্থক ততো কম। আজকের র্যালি দেখে অন্তত সেটাই মনে হয়েছে। আনুমানিক ৫০ জন নিয়ে তারা র্যালি করেছে।
তবে, এসব কথা একেবারেই গায়ে মাখছে না ব্রাজিলভক্তরা। তাদের ভাষায়, বিশ্বকাপ মানে খুনসুটি, ঠাট্টা আর আনন্দের উৎসব। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খোচা দেবে, ব্রাজিলের সমর্থকরা জবাব দেবে এটাই তো ফুটবলের সৌন্দর্য।
র্যালিতে অংশ নেওয়া এম রবিউল ইসলাম বলেন, খেলা মূলত আনন্দ ও সম্প্রীতির বিষয়। আমরা শোভাযাত্রা ও র্যালির মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। অন্য দলের সমর্থকদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা আমাদের প্রিয় দলকে সমর্থন করছি।
অবশ্য সমর্থক উপস্থিতি কম হওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছে ব্রাজিলের কিছু সমর্থক। তারা দাবি করে, র্যালিটি সকালে হওয়ায় অনেকেই আসতে পারেননি। বিকেলে আয়োজন হলে হাজার সমর্থক উপস্থিত হতো।
ব্রাজিলের সমর্থক ও র্যালির আয়োজক রাজিব হাসান বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, তাই প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই আয়োজন। ঝিনাইদহে ব্রাজিলের অসংখ্য সমর্থক রয়েছেন। আমরা আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ঘরেই যাবে।’