যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ কারা?

তসলিম শিমুল

প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন,২০২৬, ১০:০০ এ এম
বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ কারা?

বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফেভারিটদের গল্প নয়, বরং অঘটনের রোমাঞ্চও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইতিহাস বলছে, প্রতি আসরেই কোনো না কোনো দল নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে চমকে দিয়েছে বিশ্বকে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই অপেক্ষা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তির ছায়ার আড়ালে এমন কয়েকটি দল রয়েছে, যারা মুহূর্তেই হিসাব-নিকাশ উল্টে দিতে পারে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ তাই এখন তথাকথিত ‘ডার্ক হর্স’দের দিকেও।

নরওয়ে: হালান্ডের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন

অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ংকর অঘটনের নাম হতে পারে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেকজান্ডার সোরলোথকে নিয়ে গড়া এই দলটিকে বলা হচ্ছে ভাইকিংদের ‘সোনালি প্রজন্ম’। বাছাইপর্বে আক্রমণ ও রক্ষণ- দুই বিভাগেই ছিল তাদের আধিপত্য। হালান্ডের গোল করার ক্ষমতা আর ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা যে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পারে।

মরক্কো: রূপকথা এবারও!

২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও আব্দে এজ্জালজুলির মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি এখন আর কাউকে ভয় পায় না। গতি, শক্তি ও দলগত বোঝাপড়ার অসাধারণ সমন্বয় তাদের অন্যতম বড় শক্তি। আবারও বিশ্বমঞ্চে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে অ্যাটলাস লায়ন্সরা।

ইকুয়েডর: রক্ষণই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

দক্ষিণ আমেরিকার শক্ত প্রতিযোগিতা পেরিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ইকুয়েডর। উইলিয়ান পাচো ও পিয়েরো হিনকাপির মতো নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারদের উপস্থিতিতে তাদের রক্ষণভাগ অন্যতম সেরা বলে বিবেচিত হচ্ছে। মাঝমাঠে মোসেস কাইসেডো এবং সামনে অভিজ্ঞ এনের ভ্যালেন্সিয়া- সব মিলিয়ে বড় দলগুলোর জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে ইকুয়েডর।

জাপান: এশিয়ার সবচেয়ে বড় আশা

এশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে জাপানের দিকে। ব্লু সামুরাইদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত শৃঙ্খলা ও ঐক্য। তাকেহিরো তোমিয়াসু, ওয়াতারু এন্ডো এবং তাকেফুসা কুবোদের নিয়ে গড়া দলটি দ্রুতগতির ফুটবলে প্রতিপক্ষকে ভোগাতে পারে। ইউরোপের বড় বড় দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যেই রয়েছে তাদের ঝুলিতে।

এশিয়ার আরেক প্রতিনিধি দক্ষিণ কোরিয়াকেও যে সমীহ করে চলতে হবে- প্রথম ম্যাচেই তা জানান দিয়েছেন তারা। ইউরোপের দল চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভ সূচনা করেছে দলটি।

সেনেগাল: মানের শেষ বিশ্বকাপের লড়াই!

সাদিও মানের নেতৃত্বে সেনেগাল বরাবরই আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। এডুয়ার্ড মেন্ডি, কালিদু কুলিবালি ও নিকোলাস জ্যাকসনের মতো তারকারা যে কোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। শারীরিক শক্তি, গতি এবং লড়াকু মানসিকতা সেনেগালকে করে তুলেছে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।

কলম্বিয়া: জেমস-দিয়াজ জাদুর অপেক্ষায়

লুইস দিয়াজ ও জেমস রদ্রিগেজের যুগলবন্দী আবারও কলম্বিয়ার স্বপ্ন জাগাচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা তাদের বড় শক্তি। সুযোগ পেলে শক্তিশালী দলগুলোকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে লাতিন আমেরিকার এই দল।

তুরস্ক: তরুণদের হাত ধরে নতুন অভিযান

আর্দা গুলার, কেনান ইলদিজ এবং অভিজ্ঞ হাকান চালহানওগ্লুকে নিয়ে তুরস্কের বর্তমান দলটি যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও এবারের স্কোয়াডে রয়েছে চমক দেখানোর সব উপাদান।

বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্যই অপ্রত্যাশিত গল্প

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মনে থাকে সেই দলগুলোর নাম, যারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও হয়তো কোনো এক রাতে হালান্ডের নরওয়ে, মানের সেনেগাল, জাপানের ব্লু সামুরাই কিংবা মরক্কোর অ্যাটলাস লায়ন্স লিখে ফেলবে নতুন রূপকথা। আর তখনই কেঁপে উঠবে বিশ্ব ফুটবলের তথাকথিত পরাশক্তিদের সিংহাসন। বিশ্বকাপের মায়া তো এখানেই- যেখানে স্বপ্ন দেখতে কোনো দলেরই মানা নেই।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)