পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ও জমি ফেরত চেয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত দিয়েছেন জমিদাতারা।
গত ২৯ জুন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সনাতনকাটী গ্রামের আল-হেরা দাখিল মাদরাসা নিয়ে এ অভিযোগ করেন তারা।
মাদরাসা সুপার অবশ্য বলছেন, দাখিল পরীক্ষার আগে এখানে বেশকিছু ক্লাস করানো হয় শিক্ষার্থীদের।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটির জন্য রেখা বেগম ও আনোয়ারা বেগমসহ তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩২ শতক জমি দান করা হয়। দানপত্রে শর্ত ছিল, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে জমিদাতা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে জমি ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে, ২০১৫ সালের পর থেকে মাদরাসাটিতে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই এবং শিক্ষকও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রকৃত শিক্ষার্থী ছাড়াই সরকারি সুবিধা গ্রহণ, সরকারি বই ও উপবৃত্তির অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও দীর্ঘদিন টিনের ছাউনির কক্ষগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। যেকারণে এটি মাদকসেবীসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে দাবি জমিদাতাদের।
এ অবস্থায় দানপত্রের শর্ত অনুযায়ী দানকৃত জমি ফেরত এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
জানতে চাইলে মাদরাসার সুপার মাওলানা আজগর আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। এখান থেকে প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে কিছুদিন পাঠদান করানো হয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’