শাম্মী আক্তার মিথি
, খুবি
‘রুমের ভেতরে বসে থাকার উপায় নেই, বাইরে গেলে তো আরও খারাপ অবস্থা। ওয়াশরুম, ক্যান্টিন, হল প্রাঙ্গণ- সব জায়গায় মশা আর মশা। সন্ধ্যা হলেই মনে হয় মশা তুলে নিয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত মশার সঙ্গে যুদ্ধ করছি।’
এভাবেই মশার উপদ্রবে নিজের দুর্ভোগের কথা জানালেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আবু নাঈম।
খুবি ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে মশার দাপট চরম আকার ধারণ করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। একদিকে যেমন অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগের আতঙ্কে দিন কাটছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের কক্ষ, বারান্দা, রিডিং রুম ও ক্যান্টিনে মশার উপদ্রব তীব্র হয়ে ওঠে। শুধু হলের ভেতরেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক পাড় ও বসার জন্য বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও মশার কারণে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা, ক্যাফেটেরিয়া, খানজাহান আলী হল, খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ হল, অপরাজিতা হল ও বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যার পর রুমে বসে পড়াশোনা বা বাইরে আড্ডা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাই মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। বিকেলের পর দরজা-জানালা বন্ধ করেও রুমে মশা ঢুকে পড়ে। ধোঁয়া দিলেও তেমন কাজ হয় না। মশারি ছাড়া ঘুমানো মানে যেন মশাদের নিমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে!
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, হলের ড্রেনেজ ও লেকগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে, যা এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে, শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের অনাবাসিক শিক্ষার্থী জুবায়ের বলেন, মাঝে বৃষ্টির দুইদিন পর দশতলা নতুন ভবনের (৪ নম্বর অ্যাকাডেমিক ভবন) পাশে ছোট ছোট গর্তে ও ডোবায় পানি জমে আছে, আর সেখানে মশার ছোট ছোট লার্ভা চোখে পড়ছে। এগুলো কি দেখার কেউ নেই? এমন অবহেলার কারণে মশার উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
একই ধরনের অভিযোগ অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থী মালাচেং রাখাইন। তিনি বলেন, অনিয়মিত ফগার স্প্রে এবং সংস্কার কাজ চলমান থাকায় রাস্তায় কিছু পানি জমে থাকে। ফলে মশা একটু বেশিই।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং ঝোপঝাড় অপরিচ্ছন্ন থাকায় মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। কয়েল বা রিপিলেন্ট ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো মশা নিধন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, মশা নিধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকা এবং গাছপালার অতিরিক্ত বৃদ্ধিতে মশার প্রজনন হার অনেকাংশই বেড়ে যায়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ছোট ছোট ডোবা এবং ঝোপঝাড় মশার উপদ্রব বৃদ্ধিতে দায়ী। তাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা মশার প্রজনন ও উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।
মশার উপদ্রব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আপনারা হল প্রভোস্টদের সাথে কথা বলুন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে চিঠি দিলে অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ, লেক, ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন জায়গাগুলো পরিষ্কার করা হবে।’