ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদরজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি বাণিজ্য।
প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে সেই মাটি ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হতো। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা ও মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। তবে বর্তমানে প্রশাসনিক তৎপরতা অনেকটাই কমে যাওয়ায় মাটিখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আব্দুল হামিদ নামে কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উপরের উর্বর স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আঁধারে ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা ও পুকুর ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী, মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাধারণ মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ঝিকরগাছা পৌরসভার একজন জনপ্রতিনিধি নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।