শাহারুল ইসলাম ফারদিন
, যশোর
জ্যৈষ্ঠ মাসের অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যে যশোরের প্রকৃতিতে মিলেছে বর্ষার আগমনী বার্তা। আষাঢ় মাস শুরু হতে এখনো পাঁচদিন বাকি। এরমধ্যে বুধবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা।
দুপুরের পর দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি, আর তার কিছুক্ষণ পরই নামে মুষলধারে বৃষ্টি। মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের বিরতি থাকলেও চলতে থাকে রিমঝিম থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত।
দীর্ঘ গরমের পর এমন বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে, প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গত কয়েকদিন যশোরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সেসব বৃষ্টি ছিল স্বল্পস্থায়ী। বৃষ্টি থামলেই আবার তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া। তবে, বুধবারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। দুপুরের দিকে মেঘ আরও ঘনীভূত হয়ে দিনের আলোকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল বিকেলের আগেই যেন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এরপর শুরু হয় একটানা বৃষ্টিপাত, যা বিরতি দিয়ে দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
বৃষ্টির কারণে যশোর শহরের শংকরপুর, উপশহর, বেজপাড়া, রেলস্টেশন, চাঁচড়া, পালবাড়ি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে যায়। কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। ফলে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও দীর্ঘদিনের তাপদাহে অতিষ্ঠ মানুষ এসব ভোগান্তিকে তেমন গুরুত্ব দেননি।
বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় বৃষ্টির মধ্যেই অনেককে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। কেউ ছাতা নিয়ে, কেউ আবার ছাতা ছাড়াই বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যের পথে রওনা হন। অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীকে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের গরমের পর বৃষ্টির স্পর্শে তাদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।
শহরের নিউমার্কেট এলাকায় চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভ্যাপসা গরমের পর আজকের বৃষ্টি অনেক স্বস্তি দিয়েছে। অফিস থেকে ফেরার পথে ভিজেছি, কিন্তু খারাপ লাগেনি।
সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী রিধি আক্তার বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দটাই বেশি। অনেকদিন পর এমন টানা বৃষ্টি হলো।
রিকশাচালক আব্দুস ছামাদ বলেন, বৃষ্টিতে যাত্রী কিছুটা কম ছিল, তবে কয়েকদিনের গরমে সবাই কষ্টে ছিল। গত কয়েকদিন আবহাওয়া ভালো ছিলো তবে আজ অনেক ভালো লাগছে।
বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকান, বিপণিবিতান ও ফুটপাতের পাশে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন দৃশ্য। অনেককে মোবাইলফোনে বৃষ্টির ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখা গেছে। শিশু-কিশোরদের অনেকেই বৃষ্টির পানিতে খেলাধুলা করে সময় কাটিয়েছে।
কৃষকদের কাছেও এ বৃষ্টি আশার বার্তা হয়ে এসেছে। সদরের ভেকুটিয়া এলাকার কৃষক ইয়াকুব মোল্লা বলেন, আমন মৌসুমের আগে এমন বৃষ্টি খুবই উপকারী। জমিতে আর্দ্রতা বাড়বে, ফসলের জন্যও ভালো হবে। সেচের খরচও কিছুটা কমবে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সাবেক আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের বাকি অংশেও বিস্তার লাভ করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।