যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরের ঐতিহ্য ফেরাতে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপন করছে ‘উদ্যাম’

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০২:২০ পিএম
আপডেট : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
যশোরের ঐতিহ্য ফেরাতে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপন করছে ‘উদ্যাম’

যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের সুনাম ও গৌরব টিকিয়ে রাখতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের এক বিশাল কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন 'উদ্যাম' এর উদ্যোগে এবং যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

সোমবার (৮ জুন) যশোর সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা এলাকার সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে বীজ বপনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

‘দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ জুয়েল রানা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা এবং যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী।

এছাড়া ‘উদ্যাম’-এর আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাহানি আক্তার রুপা, সদস্য ওয়ালিউজ্জামান, ফয়সাল ইকবাল তমন, সুধাংশু বিশ্বাস, রাজন সালেহ, তানিয়া ও রবিউল ইসলাম উজ্জ্বলসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজক সংগঠন ‘উদ্যাম’-এর নেতৃবৃন্দ জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি, রেললাইনের ধার ও প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশে ২০ লাখ খেজুরের বীজ বপন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো—পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বজ্রপাত প্রতিরোধ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেজুর গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি যশোরের খেজুরের রসের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।

অনুষ্ঠানে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে উদ্যামের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, যশোরে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরগাছ ও গাছি। সরকারি হিসাব ও জরিপ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার উৎপাদনশীল খেজুরগাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার গাছি এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। গাছ ও গাছির সংখ্যা এভাবে হ্রাস পাওয়ায় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস আহরণ কমে গেছে। এর ফলে এ অঞ্চলে খাঁটি খেজুরের রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য ও আকাশচুম্বী মূল্যের হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় চিরতরে হারিয়ে যাবে ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’ প্রবাদটি।

তিনি আরও বলেন, ‘যশোরের খেজুরগাছ শুধু সাধারণ কোনো উদ্ভিদ নয়; এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ অর্থনীতির একটি বড় অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সেই তাগিদ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ব্যাপকভাবে এই বীজ বপনের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং গুড় উৎপাদন বাড়িয়ে যশোরের শতবর্ষের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।’

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে খেজুরগাছ রোপণ কেবল ঐতিহ্যই রক্ষা করবে না, বরং মাটির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)