সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশে চালু হলো ‘অভিযোজন দুর্গ’।
বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা আশাশুনি বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে দেশের প্রথম এই ‘অভিযোজন দুর্গের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। বড়দল আফতাবউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ বাবলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খানসহ আরো অনেকে।
বড়দল আফতাবউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল এবং ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক মূল্যায়ন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্ত করে সেগুলোকে তীব্র তাপদাহের সময় জীবন রক্ষাকারী নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রূপান্তর করার একটি নতুন পথ উন্মোচন করা হলো।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, ব্র্যাক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ উদ্যোগ 'জামিল অবজারভেটরি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক'-এর জলবায়ু পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে আগামী দশকগুলোতে তাপপ্রবাহের হার এবং তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। অতীতে যে মারাত্মক তাপপ্রবাহ প্রতি একশো বছরে একবার ঘটত, তা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে প্রতি ৪ থেকে ৮ বছর পর পর ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আর্দ্র ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযোজন সমাধান।
এই অভিযোজন দুর্গটি মূলত পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ও শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ দ্বারা পরিচালিত হবে, যা তীব্র গরমের সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে সচল ও শীতল রাখবে। এর পাশাপাশি এখানে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং উন্নত শৌচাগারের সুব্যবস্থা রাখা রয়েছে।
স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে এটি পরিচালিত হবে এবং স্বাস্থ্য ও পেশাগত দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যখন ব্যবহৃত হবেনা, তখন উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিড ও কমিউনিটির প্রয়োজনে সরবরাহ করা হবে।
ইতিমধ্যেই যশোর জেলার কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় অভিযোজন দুর্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে এমন পাঁচ হাজারটি অভিযোজন দুর্গ তৈরি করা সম্ভব হলে প্রায় দশ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।