যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মাছের আঁশে বাড়তি আয়

রূপক মুখার্জি

, লোহাগড়া (নড়াইল)

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১২:০০ পিএম
মাছের আঁশে বাড়তি আয়

একসময় মাছ কাটার পর আঁশ ফেলে দেওয়া হতো আবর্জনার সঙ্গে। সেই আঁশই এখন নড়াইলের জেলে পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।
মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেকে। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের বর্জ্যও পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদে।

নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়নের পংকবিলা জেলেপাড়ায় দেখা যায়, বাড়ির উঠান ও চিত্রা নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন মাছের আঁশ। কোথাও বাঁশের চাটাই, কোথাও পলিথিনের ওপর, আবার কোথাও বা পরিষ্কার মাটিতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা কেউ আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকানো আঁশ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।

পংকবিলা জেলেপাড়ায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গত পাঁচ থেকে ১৬ বছর ধরে মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত।

মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করা এসব মাছের আঁশ বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে। জাপান ও চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি রপ্তানির বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে, মাছ কাটার পর ফেলে দেওয়া আঁশ একদিকে পরিবেশদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী টিকান্তু সরকার বলেন, আগে মাছ কাটার পর আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন আমরা সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে রাখি। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি।

অপর জেলে সুপল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি মাছের আঁশ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের আঁশ হলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিন-চার মাস পরপর যশোর, নওয়াপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আঁশ কিনে নিয়ে যান।

পংকবিলা এলাকার দয়াল শিল শুভ বলেন, আমার প্রতিবেশী অনেক জেলে পরিবার মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ করে। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই এ কাজে যুক্ত থাকেন। আঁশ বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয়ও চালাচ্ছেন।

জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিণী জানান, আগে আঁশগুলো আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগে। এতে পরিবারের আয় বাড়ছে এবং নারীরাও সরাসরি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারছেন।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের জাত ও আকার অনুযায়ী আঁশের চাহিদা ও দাম ভিন্ন হয়। বড় আকারের রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প ও ব্ল্যাক কার্পের (ব্লাড কার্পের স্থানে সংশোধন করা হয়েছে) আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বড় মাছের আঁশ আকারে বড় হওয়ায় তা সংগ্রহ, পরিষ্কার ও শুকানো সহজ।

নড়াইল সদর ছাড়াও লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার অনেক মৎস্যজীবী পরিবার মাছের আঁশ বেচাকেনার সাথে জড়িত রয়েছেন।

লক্ষ্মীপাশা গ্রামের স্বপন বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন ক্রেতাদের মাছ কাটি। এ সময় যা পাওয়া যায়, সেগুলো বাড়ি নিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রৌদ্রে শুকাই। সেই শুকনো আঁশ কেজি দরে বিক্রি করে থাকি।

নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান বলেন, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। এসব আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)