বর্ষার জলরাশি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-নালা ও বিলবেষ্টিত এলাকাগুলোতে নতুন নৌকার চাহিদা ব্যাপক। আর সেই চাহিদা মেটাতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করতে হয় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুমোরঘাটা বাজারের কারিগর ও ব্যবসায়ীদের।
প্রত্যন্ত এই বাজারের সীমানায় পা রাখলেই চারপাশ থেকে ভেসে আসে হাতুড়ি-বাটাল আর করাতের ছন্দ। যেখানে চলছে নৌকা ও ডোঙা তৈরির কর্মযজ্ঞ।
কুমোরঘাটা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় মিলিয়ে সেখানে অন্তত এক ডজন নৌকা তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রধানত ডিঙি, ছোট ডোঙা এবং বিভিন্ন আকারের নৌকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে।
এ বাজারের অন্যতম নৌকা ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জানান, এখানে তার নিজস্ব তিনটি কারখানা ও দোকান রয়েছে, যেখানে বছরের একটি বড় সময়জুড়ে কারিগররা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন।
অভিজ্ঞ কারিগর গোলাম রাব্বির সাথে আলাপে জানা যায়, আকার ও কাঠের মানের ওপর ভিত্তি করে নৌকার দামের তারতম্য ঘটে। সাধারণত নৌকা ও ডোঙা তৈরিতে কড়াই, পুয়ো, চম্বল, লম্বু, মেহগনি এবং রয়না গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ‘পুয়ো’ কাঠের স্থায়িত্ব ভালো হওয়ায় এই কাঠের তৈরি নৌকা ও ডোঙার দাম ও চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নৌকার মাপ ও দামের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, বাজারে সাধারণত ৮ থেকে ১৪ হাত লম্বা নৌকার চাহিদা বেশি থাকে। কাঠ ও আকারের ভিন্নতায় একেকটি নৌকা সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাত নৌকা নয় হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায় এবং ১২ থেকে ১৪ হাত নৌকা ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
কারখানায় কারিগররা প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুইটি ডিঙি বা ছোট নৌকা তৈরি করতে পারেন। ১০ থেকে ১২ হাত লম্বা একটি নৌকা তৈরিতে কারিগররা আকারভেদে ২২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পান।
কুমোরঘাটা বাজারে তৈরি নৌকার সুনাম রয়েছে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের বটিয়াঘাটাসহ বিলবেষ্টিত দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে ক্রেতারা সরাসরি এই বাজারে এসে নৌকা কিনে নিয়ে যান।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বর্ষার মূল মৌসুম না হওয়ায় বেচাকেনার গতি কিছুটা ধীর হলেও, মৌসুম শুরু হলেই বাজারে ক্রেতাদের ঢল নামে। তাই আগে থেকেই নৌকা তৈরি করে মজুত রাখা হচ্ছে।
তাছাড়া, বড় বড় মৎস্য ঘেরে এখন ডিঙি নৌকার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় সারা বছরই এখানে কম-বেশি বেচাবিক্রি চলতে থাকে।