আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশনের অনন্য উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
পাঁচ-ছয় মাস দর্জি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে উদ্বেলিত সেইসব নারীরা। জানালেন তাদের অনুভূতি।
বুধবার বিকেলে যশোর শহরের আরএন রোডে আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ নেয়া ৩০ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
সেলাই মেশিন ও টাকা পেয়ে বেজায় খুশি প্রশিক্ষণ নেয়া নারীরা। প্রায় ছয় মাস ধরে দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে মোট ১৩০ জনকে পর্যায়ক্রমে সংগঠন থেকে সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
আরএন রোড মসজিদ গলির বাসিন্দা গৃহবধূ রিপা জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি পাঁচ মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন তিনি সব ধরনের পোশাক তৈরি করতে পারেন। তার স্বামী এরশাদ আলী চায়ের দোকানদার। সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য একটি সেলাই মেশিনের খুব প্রয়োজন ছিলো। এখন থেকে তিনি বাড়িতে বসে পোশাক তৈরি করতে পারবেন।
প্রায় একই কথা জানান শিমুল বিশ্বাসের স্ত্রী মেঘলা খাতুন। তিনি বলেন, ‘স্বামী লেদে কাজ করেন। মেশিন পেয়ে এখন থেকে বাড়িতে বসেই পোশাক বানাবো।’
আগামী ঈদের আগে তিনি পোশাক বানিয়ে বিক্রি করতে পারবেন অথবা অর্ডার নিয়ে মজুরির বিনিময়ে বাড়তি আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেঘলা।
এদের মতো অনেকেই তাদের ইচ্ছার কথা জানান। নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে সকলের মুখেই হাসি। তাদের অনেকের সন্তান আবার কোরান শিক্ষা নিয়েছেন আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশন থেকে। এই সংগঠনটির কারণে অনেক নারী ও শিশু চিকিৎসা নিতে পারছেন এবং বিনামূল্যে লেখাপড়া করতে পারছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, যশোর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশন নারী ও শিশুদের কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, স্কুলব্যাগ, ভর্তি ফি এবং মাসিক টাকার ব্যবস্থা করেছে, নারীদের নানা রকম প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই কাজ হলো মূলত সরকারের, রাষ্ট্রের। সরকার যখন ব্যর্থ হয় তখন সমাজের মানুষ ও সংগঠন এগিয়ে আসে। দুর্ভাগ্য, রাষ্ট্র মানুষের দায়িত্ব নেয়নি। গত ১৬ বছর মানুষের চাহিদা পূরণে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।
রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে মানুষের জন্য এগিয়ে আসা আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার প্রত্যেক অসচ্ছল পরিবারের নারী সদস্যের জন্য পারিবারিক কার্ড উপহার দেবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেড় কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য যুবদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যশোরের শারীরিক প্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী তামান্না নুরা। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করি না। সাহস ও চেষ্টা থাকলে যে কেউ তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারে। সেটা যেকোনো সময় থেকেই শুরু করা যায়। পারবো না-এটা না ভেবে, পিছু না হটে- লক্ষ্য স্থির করে চেষ্টা করলে সব কিছুই সম্ভব।’
সভার শুরুতে আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউশনের বিভিন্ন সেবামূলক কাজের বিবরণ তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আইয়াজ উদ্দিন রিপন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান এজাজ উদ্দিন টিপুর সঞ্চালনায় আরএন রোড মহল্লা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ সফিক রতনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অ্যাডভোকেট শহিদ আনোয়ার, শাহিনুর রহমান ঠান্ডু, সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মাসুম, অ্যাডভোকেট হাজি আনিসুর রহমান মুকুল, মোস্তফা গোলাম কাদের, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভাশেষে প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা দর্জি প্রশিক্ষণ নেওয়া ৩০ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও চেক বিতরণ করেন।