তারেক মাহমুদ
, (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ
চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষ করে শাহজালাল এখন খরচ-খরচা বাদ দিয়ে মসে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের ফজল জামাদারের ছেলে শাহজালাল। তার খামারে এখন চারজন কর্মচারী কাজ করেন। ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই, অভিমত শাহজালালের।
একসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের স্বপ্ন তাকে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস জোগায়।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা পারভীনের পরামর্শ ও উৎসাহে বছর চার আগে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। মাত্র বিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি এই কাতে। আজ বাণিজ্যিক খামারি শাহজালালের ফার্মে কাজ করছেন চারজন কর্মচারী।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রথম মাগুরায় মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আওতায় মাগুরায় ১১ দিনব্যাপী ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ২০০টি স্পন (এক কেজি) প্যাকেট দিয়ে যাত্রা শুরু। বর্তমানে তার খামারে প্রায় পাঁচ হাজার স্পন প্যাকেট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
শাহজালালের উৎপাদিত মাশরুম বর্তমানে ঝিনাইদহের স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি মাসে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকার মাশরুম বিক্রি করেন। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে তার মাসিক লাভ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম আড়াইশ’ টাকা এবং খুচরা বাজারে তিনশ’ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
শাহজালাল বলেন, ‘মানুষের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আমি মাশরুম চাষ শুরু করি। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ছিল। তবে প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং কৃষিবিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় আজ এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।’
মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্পন প্যাকেটও কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। উৎপাদন শেষে এসব স্পন প্যাকেট বিশেষ পদ্ধতিতে উন্নতমানের জৈবসারে রূপান্তর করা হয়। সেই জৈবসার প্রতি কেজি দশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাহজালালের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা পারভীন বলেন, তিনি একজন পরিশ্রমী, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোক্তা। শুরু থেকেই তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল সেই পরামর্শ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তার খামারে উন্নত প্রযুক্তিতে মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।