ফলোআপ: যশোর জেনারেল হাসপাতাল
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত কমিটির তদন্ত শেষ হয়েছে। রোববার সকালে হাসপাতালের সভাকক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তদন্ত কার্যক্রম চলে। এতে প্রাথমিকভাবে নবজাতকটি ‘আইইউডি’ (ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডেথ) বা গর্ভেই মারা গিয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। তবে গাইনির চিকিৎসক ও ওয়ার্ডের সেবিকাদের কিছু অবহেলার বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্ষুব্ধ স্বজনদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মৌখিক বক্তব্যও ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ২০ আগস্ট ক্ষুব্ধ স্বজনদের লিখিত অভিযোগ এবং সুবর্ণভূমিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটির সভাপতি করা হয় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রভাষক ডাক্তার রবিউল ইসলামকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল। অপর সদস্য যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার মাহবুবুর রহমান।
ভুক্তভোগী প্রসূতি তাজমিরা খাতুনের বয়স ২০ বছর। তিনি যশোর সদর উপজেলার কিসমত রাজাপুর গ্রামের সাগর হোসেনের স্ত্রী। এই দম্পতির এটি ছিল প্রথম সন্তান।
স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে প্রসববেদনা নিয়ে তাজমিরাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৯টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশনের পর একজন আয়া শিশুটিকে নিয়ে এসে জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে দেখানোর কথা বলেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটির শরীরে পেঁচানো কাপড় খুলে দেখেন, পেট ও বুকে চামড়া উঠে রয়েছে। এ সময় স্বজনরা চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অপারেশনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগেই শিশুটি গর্ভে মারা গিয়েছিল। একই সঙ্গে গাইনি চিকিৎসক ও ওয়ার্ডের সেবিকাদের কিছু অবহেলার বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে তদন্ত কমিটি কয়েকটি সুপারিশ করতে পারে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ও তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার তদন্ত সম্পন্ন করেছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েক বলেন, ‘অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রোববারসহ তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ সপ্তাহের শেষের দিকে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।’